নিজস্ব সংবাদদাতা।। অর্থ অভাবে বই কিনতে না পারা রাজবাড়ী সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্রী সাদিয়া সুলতানা-কে বই উপহার দিয়েছে রাজবাড়ী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) রেজাউল করিম।
রবিবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজবাড়ী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) রেজাউল করিম। এসময় তিনি বলেন গত মঙ্গলবার ৭ নভেম্বর দুপুরে রাজবাড়ী পুলিশ সুপার কার্যালয়ের অফিস কক্ষে সাদিয়া সুলতানার হাতে এই উপহারের বই তুলে দেন তিনি।
এসময় উপহার প্রদান প্রসঙ্গে অতিরিক্ত সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) রেজাউল করিমের কাছে জানতে চাইলে প্রতিদিনের কাগজ প্রতিবেদক-কে তিনি বলেন,কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোষ্ট দেখে জানতে পারলাম মেধাবী শিক্ষার্থী সাদিয়া সুলতানা শান্তা অর্থের অভাবে পড়ালেখা শঙ্কার মুখে পড়েছে। বিষয়টি জানার পর আমার কাছে মনে হয় হয়েছে আমি সাদিয়া-কে যতটুকু পারি আমার সাধ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করবো। তাই সেটা আমি করেছি। এছাড়া আগামীতেও এখনকারমত লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারে তার জন্য সহযোগিতা করব। কারণ ছোট বেলায় আমিও খুব কষ্ট করে পড়ালেখা করেছি তাই আমি জানি এই পরিস্থিতিতে মানুষ কতটা অসহায় হয়।
উক্ত বিষয়ে সাদিয়া সুলতানা শান্তার কাছে জানতে চাইলে প্রতিদিনের কাগজ প্রতিবেদক-কে তিনি বলেন, ২০১৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় বিনা চিকিৎসায় তার দাদার মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই তার চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছা। কিন্তু তার পড়ালেখা চালিয়া যাওয়ার মতন সামর্থ্য আমার বাবার নেই। টাকার অভাবে এসএসসি পর্যন্ত প্রাইভেট পড়ার কোন সুযোগ পাইনি।
বাড়িতে নিজে নিজে পড়েই আমি এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছি এবং জিপিএ-৫ পেয়েছি। এরপর রাজবাড়ী সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হই। তারপর টাকার অভাবে বই কিনতে পারছিলাম না। বিষয়টি জানার পর রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল করিম স্যার আমাকে বই কিনে দেন এবং প্রাইভেট পড়ার ব্যবস্থা করে দেন। যা আমাকে আগামীতে আমার লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করবে।
এছাড়া আরোও জানা যায়,সাদিয়া সুলতানা শান্তা রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর ইউনিয়নের দত্তপাড়া গ্রামের মোঃ আব্দুস সাত্তার ব্যাপারী ও সাগরিকা বেগম দম্পতির মেয়ে। তিন ভাই বোনের মধ্যে সাদিয়া বড়। সাদিয়ার এক ভাই সপ্তম শ্রেণীতে ও আরেক ভাই তৃতীয় শ্রেণীতে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে পড়ে। বাবা কৃষিকাজ করে ও মা গৃহিণী। কৃষিকাজ করে সাদিয়ার বাবা সংসার চালায়।
আমাদেরবাংলাদশে ডটকম/রাজু